সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

Ad Code

৫ কিলোমিটারে ১৬ স্পিডব্রেকার: বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতগামী সড়কে মরণ ফাঁদ



নিজস্ব প্রতিবেদক::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতগামী প্রধান সড়কের সাথে সংযোগ সড়ক কালীপুর সলিয়া বাপের পুল থেকে বাহারছড়া সৈকত পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কে বসানো হয়েছে অন্তত ২০ থেকে ২২টি স্পিডব্রেকার। পরিকল্পনাহীনভাবে বসানো এ সব অতিরিক্ত গতিরোধকে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে রাতের বেলায় দৃশ্যমানতা কম থাকায় মোটরসাইকেল আরোহী ও যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। স্পিডব্রেকারগুলো বসানো হয়েছে অস্বভাবিকভাবে। সরেজমিনে দেখা যায়, অতিরিক্ত উঁচু করে বসানো স্পিডব্রেকারগুলো। নেই কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন। দূর থেকে দেখে বুঝাই যায় না এখানে স্পিডব্রেকার আছে। অতিরিক্ত এবং অস্বভাবিকভাবে বসানো এ ব্রেকারগুলো যেন মরণ ফাঁদ।

এটি বাহারছড়া ইউনিয়নের প্রধান অভ্যন্তরীণ সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন শত শত সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করে। ঈদসহ সরকারি ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকরাও এই সড়ক দিয়ে সৈকতে পৌঁছেন।

নিয়মিত চলাচল করা পথচারী মুহাম্মদ এনামুল হক বলেন, 'একটি পর্যটনমুখী রাস্তায় এতগুলো স্পিডব্রেকার রাখা অযৌক্তিক। উচ্চতাও বেশি হওয়ায় গাড়ির ধাক্কায় অনেক সময় যাত্রী পড়ে গিয়ে আহত হয়। নিম্নমানের ব্রেকারগুলো বর্ষায় আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।'

উপজেলা যুব নেতা খোরশেদ আলী চৌধুরী বলেন, 'পরিকল্পিত উন্নয়নের পরিবর্তে যত্রতত্র স্পিডডব্রেকার বসানোই এখন নিয়ম হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় মোড়ে সাইনবোর্ড, জেব্রা ক্রসিং, সোলার লাইট থাকলে দুর্ঘটনা কমতো। আমরা চাই- পর্যটন এলাকার মর্যাদা অনুযায়ী সড়কটি সংস্কার ও নিরাপদ করা হোক।'

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুল ইসলাম বলেন, 'অতিরিক্ত স্পিডব্রেকার যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। কিছু জায়গায় ব্রেকারের প্রয়োজন থাকলেও এতগুলো স্থাপন আদৌ যৌক্তিক নয়। আমরা দ্রুত প্রশাসনের সাথে কথা বলছি।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামশেদুল আলম বলেন, 'সমুদ্র সৈকতগামী ওই সড়কে অতিরিক্ত ও অস্বভাবিক স্পিডব্রেকার বসানোর বিষয়ে জেনেছি।অপ্রয়োজনীয় স্পিডব্রেকার অপসারণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা বিবেচনায় শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সড়কটির ব্যবহার বেড়েছে পর্যটন কার্যক্রমের কারণে; তাই সড়কটি পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তুলতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ