বাঁশখালী সংলাপ::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক চৌধুরী (৪৫)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কদমরসূল বটতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জিয়াউল হক চৌধুরী খানখানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি এর আগে বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়ভাবে তিনি বাঁশখালীর সাবেক ও বর্তমানে পলাতক এমপি মোস্তাফিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি বাঁশখালী থানার আলোচিত দুইটি হত্যা মামলার (জি আর মামলা নং–৭৩/১৪) আসামি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি দল দীর্ঘ সময় ধরে তাকে নজরদারিতে রাখে। পরে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বটতলী বাজারের একটি চা-দোকান থেকে জিয়াউল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হলে হঠাৎ তার অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তারা জিয়াউল হককে হাতকড়াসহ পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকায় অভিযান শুরু করে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, 'জিয়াউল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনার সময় তার কিছু অনুসারী সংঘবদ্ধভাবে তাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।'
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ